ওয়াজ-মাহফিলে বক্তার সাথে অশালীন আচরণ: যা করতে পারেন আয়োজক কমিটি-শ্রোতারা

মুসলিমস টাইমস রিপোর্ট:সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ মাহফিলে বক্তার সাথে অপ্রীতিকর ও অশালীন আচরণ করতে দেখা গেছে অনেককে। কোন কোন জায়গায় বক্তাকে অশালীন ভাষায় গালিও দিতে দেখা গেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের। এছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে মাহফিল বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা তো ঘটছেই।

আবহমানকাল ধরে দাওয়াতের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে ওয়াজ-মাহফিলের মঞ্চগুলো। এছাড়া দেশের আপামর জনতার কাছে শান্তি-সম্প্রীতি ও ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্লাটফর্ম এ মাহফিলগুলো।

ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে দ্বীনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম এ মাহফিলগুলোতে কেন এমন ঘটনা ঘটছে? জানতে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুর রব ইউসুফীর সাথে। তিনি বলছেন, বর্তমানে মাহফিলগুলোতে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যেসব অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন, বিভিন্ন দিক বিবেচনায় বলা যায়- এসব ঘটনা আসলে দলীয় স্বার্থ ও ব্যক্তি বিদ্বেষের তুলনায় ধর্মীয় বিষয়ে এই শ্রেণীর লোকদের যথাযথ জ্ঞান না থাকার কারণে ঘটছে। ধর্মীয় বিষয়ে তাদের যথাযথ জ্ঞান থাকলে এসব দুঃখজনক ঘটনা দেখতে হতো না বলছিলেন মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী।

এসব অপ্রীতিকর ঘটনা বন্ধে মাহফিলের আয়োজক কমিটি কোন ধরণের ব্যবস্থা নিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, মাহফিল কমিটি নিজে থেকে ব্যবস্থা নিতে গেলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভবনা বেশি। এতে বিশৃঙ্ক্ষলাও ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই এই আলেমের পরামর্শ হলো, যেহেতু বর্তমানে প্রায় জায়গায় মাহফিলে কিছু অবুঝ মানুষের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে, তাই আয়োজক কমিটি যেকোন ধরণের বিব্রতকর অবস্থা এড়াতে আগে থেকেই প্রসাশনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

কোন মাহফিলে স্থানীয় বা দলীয় প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে বিব্রতকর অবস্থার তৈরী হলে শ্রোতারা কি করতে পারেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা ইউসুফী বলছেন, ধর্মীয় আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্রোতাদের অবশ্যই নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী তা ফেরানো উচিত। কিন্তু তাই বলে আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো কোন ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে শ্রোতাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে বলছেন মাওলানা ইউসুফী।

এছাড়া উত্তেজনা ছড়ায় এবং ধর্মীয় বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন আলোচনা না করতেও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বক্তাদের।

কোন মাহফিলে উদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হলে কেউ যেন পরবর্তীতে ঘটনা সৃষ্টিতে বক্তার আলোচনাকে দায়ী করতে না পারেন সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুর রব ইউসুফীর।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

এইচ এম সোহেল॥ আবারো বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে পাথরবোঝাই ট্রাকের ভারে ভেঙ্গে পড়েছে মাধবপাশার বেইলি ব্রিজ। পাথর বোঝাই ট্রাকটি ব্রিজ পারাপররের সময় ব্রিজের মাঝামাঝি আসার পরে ব্রিজটি ভেঙ্গে ট্রাকটি খালের ভিতরে পড়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পরে দুই পারের হাজারো গাড়ি এবং যাত্রী। ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৭ টার দিকে। বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে এই বেইল ব্রিজটি খালে ভেঙ্গে পড়ে। পাথরবোঝাই একটি ট্রাকটি পিরোজপুর থেকে বানারীপাড়া আসার পথে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর আগে ২০২০ সালেও পাথরবোঝাই ট্রাকের ভারে ভেঙ্গে পড়েছিলো বেইলি ব্রিজটি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলো। ওই সময় সড়কের পাশে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বরিশাল মেট্রোপলিটনের বিমান বন্দর থানার এ এস আই সুমন দেশ জনপদকে জানান, আমি সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আশি। বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় বরিশালের সঙ্গে নেসারাবাদ ও বানারীপাড়ার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে । এতে স্থানীয় জনসাধারণ ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ সৃস্টি হয়েছ। ট্রাক উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই ব্রিজটি বছর দেড়েক আগে আরও একবার ভেঙ্গে পড়েছিল। দুর্ঘটনায় স্থানীয়রা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ব্রিজটি সচল করার দাবি জানান তিনি।