এক নজরে দেখে নিন লকডাউন এর বিধি নিষেধ

  • মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার
  • ১০৬ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ
  • সীমিত আকারে চলবে শিল্প কারখানা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
  • রাস্তায় থাকবে জরুরী কাজে নিয়োজিত যানবাহন
  • আওতার বাইরে সংবাদপত্র

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় দেশে আজ বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত সাতদিনের ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ আরোপ করেছে সরকার। সার্বিক কার্যক্রম ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে জারি করা হয়েছে একুশ দফা সংবলিত প্রজ্ঞাপন। এই সময় কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না, প্রজ্ঞাপনে তা উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী-বিজিবি, র‌্যাব পুলিশ ও আনসার বাহিনী। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সারাদেশে আট বিভাগে ১০৬ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিনা প্রয়োজনে কেউ যেতে পারবে না ঘরের বাইরে। বিনা কারণে বাইরে বের হলে গ্রেফতার এবং জেল হতে পারে। স্থগিত করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্প কারখানা চালু ও সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিধিনিষেধ শুরুর আগের দিন বুধবার রাজধানীতে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও রাস্তায় ছিল ব্যাপক যানজট। ঢাকায় প্রবেশ এবং ঢাকা থেকে বের হওয়ার রাস্তাগুলোতে ছিল প্রচণ্ড ভিড়। চাপ ছিল পদ্মা পারাপারের ফেরিঘাটগুলোতে।

করোনা সংক্রমণের কারণে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে বিধিনিষেধ চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সীমিত আকারে লকডাউনও ঘোষণা করে সরকার। সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ার কারণে আজ বৃহস্পতিবার থেকে কিছু নতুন শর্ত যোগ করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগের তুলনায় বিধিনিষেধের সংখ্যা বাড়ানোয় তা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনে কঠোর হওয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেয়া ‘করোনাভাইরাসজনিত রোগের বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যক্রম ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

যা আছে প্রজ্ঞাপনে ॥ করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু শর্ত যুক্ত করে ১ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ দেয়া হলো। আরোপ করা ২১টি বিধিনিষেধ হচ্ছে, দেশে সব ধরনের সরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারী অফিস বন্ধ থাকবে। এছাড়া লোকজনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটসহ) ও সব ধরনের স্বচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সীমিত লকডাউনের মতোই কঠোর বিধিনিষেধে শপিংমল-মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। এছাড়া সব পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। জনসমাবেশ রোধ করতে সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্র্ট আদালতগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলে প্রজ্ঞাপন উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কঠোর বিধিনিষেধে যা চালু থাকবে ॥ আইনশৃঙ্খলা ও জরুরী পরিষেবা, যেমন- কৃষিপণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যক্রম, বিদ্যুত, পানি, গ্যাস বা জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারী-বেসরকারী), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরী বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে বলা হয়েছে, পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান বা কার্গো ভেসেল এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। বন্দরগুলো (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে।

কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন বা বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা নেয়ার জন্য যাতায়াত করা যাবে।

খাবারের দোকান, হোটেল ও রেস্তরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি (অনলাইন বা টেকওয়ে) করতে পারবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকেট প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে। আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠ পর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করবে। একইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোন কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলো এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবে।

বন্ধ থাকবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ॥ আজ থেকে শুরু হওয়া সরকারী বিধিনিষেধে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বুধবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ৭ জুলাই রাত ১১টা ৫৯ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। তবে ত্রাণ-সাহায্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলো অনুমতি নিয়ে চলতে পারবে।

তবে সেক্ষেত্রে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এছাড়াও বিমানবন্দরগুলোতে যেসব আন্তর্জাতিক ও বিশেষ ফ্লাইট চলবে, সেগুলোকে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকেট দেখিয়ে গাড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন।

বিধিনিষেধ কার্যকরে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী ॥ করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে আরোপিত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী কাজ করবে। বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবারের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকরে মাঠে থাকবে পুলিশ। অকারণে ঘর থেকে বের হলেই গ্রেফতার, জেল-জরিমানা। হতে পারে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল, অর্থদণ্ড ও উভয় দণ্ড। প্রয়োজনে গ্রেফতারের সিদ্ধান্তও নেয়া হতে পারে।

সীমিত পরিসরে চালু থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার ॥ করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত সারাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেও সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। বুধবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যাংক চালু থাকলে শেয়ারবাজারও চালু থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুসারে, সীমিত পরিসরে ব্যাংক ব্যবস্থা পরিচালনার লক্ষ্যে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অত্যাবশ্যকীয় বিভাগগুলো যথাসম্ভব সীমিত লোকবলের মাধ্যমে খোলা রাখা হবে। এছাড়া ব্যাংকের প্রিন্সিপাল/ প্রধান শাখা এবং সব বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা (এডি শাখা) খোলা থাকবে। তবে লোকবল থাকবে সীমিত। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার বিবেচনায় প্রতিটি জেলা সদরে ও উপজেলায় একটি করে শাখা খোলা থাকবে। অন্যান্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলা সদরে একটি শাখা খোলা রাখতে হবে এবং জেলা সদরের বাইরে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার বিবেচনায় অনধিক দুটি শাখা খোলা রাখা যাবে।

আট বিভাগে ১০৬ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ॥ করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। বিধিনিষেধের এই সময়ে সারাদেশের আটটি বিভাগে ১০৬ জনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর ১০(৫) ধারা অনুযায়ী, এপিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর ৫ ধারা অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের আওতাধীন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কর্মকর্তাদের।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপনে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার নিয়োগ করতে বলা হয়েছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া এই সময়ে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।

একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোন কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলো এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলেও জানানো হয়েছে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

এইচ এম সোহেল॥ আবারো বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে পাথরবোঝাই ট্রাকের ভারে ভেঙ্গে পড়েছে মাধবপাশার বেইলি ব্রিজ। পাথর বোঝাই ট্রাকটি ব্রিজ পারাপররের সময় ব্রিজের মাঝামাঝি আসার পরে ব্রিজটি ভেঙ্গে ট্রাকটি খালের ভিতরে পড়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পরে দুই পারের হাজারো গাড়ি এবং যাত্রী। ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৭ টার দিকে। বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে এই বেইল ব্রিজটি খালে ভেঙ্গে পড়ে। পাথরবোঝাই একটি ট্রাকটি পিরোজপুর থেকে বানারীপাড়া আসার পথে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর আগে ২০২০ সালেও পাথরবোঝাই ট্রাকের ভারে ভেঙ্গে পড়েছিলো বেইলি ব্রিজটি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলো। ওই সময় সড়কের পাশে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বরিশাল মেট্রোপলিটনের বিমান বন্দর থানার এ এস আই সুমন দেশ জনপদকে জানান, আমি সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আশি। বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় বরিশালের সঙ্গে নেসারাবাদ ও বানারীপাড়ার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে । এতে স্থানীয় জনসাধারণ ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ সৃস্টি হয়েছ। ট্রাক উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই ব্রিজটি বছর দেড়েক আগে আরও একবার ভেঙ্গে পড়েছিল। দুর্ঘটনায় স্থানীয়রা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ব্রিজটি সচল করার দাবি জানান তিনি।