আগের ছয় মাসের সমান জুলাইয়ে মৃত্যুর সংখ্যা

এইচ এম সোহেল : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। দেশে জুলাই মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ হাজার ১৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত এক মাসে সর্বোচ্চ এবং জুনের চেয়ে প্রায় তিন গুণেরও বেশি। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই আগেকার রেকর্ড ভেঙে গড়ছে নতুন রেকর্ড।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ হাজার ৯৪৪ জন মারা গেছেন। আর শুধু জুলাই মাসেই মারা গেছেন ৬ হাজার ১৮২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জুলাই ১৪৩ জন, ২ জুলাই ১৩২ জন, ৩ জুলাই ১৩৪ জন, ৪ জুলাই ১৫৩ জন, ৫ জুলাই ১৬৪ জন, ৬ জুলাই ১৬৩ জন, ৭ জুলাই ২০১ জন, ৮ জুলাই ১৯৯ জন, ৯ জুলাই ২১২ জন, ১০ জুলাই ১৮৫ জন, ১১ জুলাই ২৩০ জন, ১২ জুলাই ২২০ জন, ১৩ জুলাই ২০৩ জন, ১৪ জুলাই ২১০ জন, ১৫ জুলাই ২২৬ জন, ১৬ জুলাই ১৮৭ জন, ১৭ জুলাই ২০৪ জন, ১৮ জুলাই ২২৫ জন, ১৯ জুলাই ২৩১ জন, ২০ জুলাই ২০০ জন, ২১ জুলাই ১৭৩ জন, ২২ জুলাই ১৮৭ জন, ২৩ জুলাই ১৬৬ জন, ২৪ জুলাই ১৯৫ জন, ২৫ জুলাই ২২৮ জন, ২৬ জুলাই ২৪৭ জন, ২৭ জুলাই ২৫৮ জন, ২৮ জুলাই ২৩৭ জন, ২৯ জুলাই ২৩৯ জন, ৩০ জুলাই ২১২ জন, ৩১ জুলাই ২১৮ জন। এর মধ্যে গত ২৭ জুলাই দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ২৫৮ মৃত্যু হয়। সেই হিসাবে করোনায় জুলাই মাসে দেশে ৬ হাজার ১৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তথ্যমতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ওই মাসে মোট ৫১ জনের মৃত্যু হয়। এরপর এপ্রিলে ১৬৩ জন, মে মাসে ৪৯২ জন, জুনে ১১৯৭ জন, জুলাইয়ে ১২৬৪ জন, আগস্টে ১১৭০ জন, সেপ্টেম্বরে ৯৭০ জন, অক্টোবরে ৬৭২ জন, নভেম্বরে ৭২১ জন এবং ডিসেম্বরে ৯১৫ জনের মৃত্যু হয়।

এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ এ তিন মাস কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে করোনা পরিস্থিতি। জানুয়ারিতে ৫৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৮১ জন, মার্চে ৬৩৮ জন, এপ্রিলে ২৪০৪ জন, মে ১১৬৯ জন এবং জুনে ১৮৮৪ জনের মৃত্যু হয় এবং জুলাই মাসে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। জুলাই মাসে দেশে এযাবতকালের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে, প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা।

তবে, ‘কঠোর লকডাউন’ কার্যকর থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় গত ১ জুলাই থেকে ১৪ দিনের জন্য ‘কঠোর’ বিধি-নিষেধ বাস্তবায়ন শুরু করে সরকার। তবে, ঈদ উদযাপনের জন্য আটদিনের জন্য বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়। পরে গত ২৩ জুলাই থেকে ফের দুই সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর’ বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, গণপরিবহন এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়া হয়।

করোনা সংক্রমণের কারণে সবশেষ ৩১ জুলাই পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ছিল। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমিত রোগী পাওয়ার পর ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

এইচ এম সোহেল॥ আবারো বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে পাথরবোঝাই ট্রাকের ভারে ভেঙ্গে পড়েছে মাধবপাশার বেইলি ব্রিজ। পাথর বোঝাই ট্রাকটি ব্রিজ পারাপররের সময় ব্রিজের মাঝামাঝি আসার পরে ব্রিজটি ভেঙ্গে ট্রাকটি খালের ভিতরে পড়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পরে দুই পারের হাজারো গাড়ি এবং যাত্রী। ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৭ টার দিকে। বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে এই বেইল ব্রিজটি খালে ভেঙ্গে পড়ে। পাথরবোঝাই একটি ট্রাকটি পিরোজপুর থেকে বানারীপাড়া আসার পথে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর আগে ২০২০ সালেও পাথরবোঝাই ট্রাকের ভারে ভেঙ্গে পড়েছিলো বেইলি ব্রিজটি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলো। ওই সময় সড়কের পাশে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বরিশাল মেট্রোপলিটনের বিমান বন্দর থানার এ এস আই সুমন দেশ জনপদকে জানান, আমি সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আশি। বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় বরিশালের সঙ্গে নেসারাবাদ ও বানারীপাড়ার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে । এতে স্থানীয় জনসাধারণ ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ সৃস্টি হয়েছ। ট্রাক উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই ব্রিজটি বছর দেড়েক আগে আরও একবার ভেঙ্গে পড়েছিল। দুর্ঘটনায় স্থানীয়রা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ব্রিজটি সচল করার দাবি জানান তিনি।