করোনার মধ্যেও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি

এইচ এম সোহেলঃ করোনার সংক্রমণ ও দফায় দফায় বিধিনিষেধের কারণে কার্যক্রম বন্ধ কিংবা বিঘ্নিত হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টারখ্যাত উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ৬৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় এর আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৫৪২ কোটি ১৩ লাখ টাকার চেয়ে ১৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছর আগের তুলনায় সোয়া তিন গুণ বেশি।

আখাউড়া স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বিগত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে রপ্তানি আয় সবচেয়ে কম হয়েছে ২০১৬-১৭ বছরে। ওই অর্থবছর রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

স্থলবন্দর দিয়ে পরিমাণের দিক থেকে গত পাঁচ অর্থবছরে ভারতে প্রায় ৮ লাখ ৯৫ হাজার টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ লাখ ১১ হাজার টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ লাখ ১০ হাজার টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ লাখ ৪২ হাজার টন ও সবশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ লাখ ৩২ হাজার টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিও হয়, তবে তা খুবই কম। গত পাঁচ বছরে মোট ৩৪৪ দশমিক ৮৩ টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যার মূল্য ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। করোনার কারণে যাত্রীদের যাতায়াত অনেকটাই বন্ধ রয়েছে। যে কারণে ভ্রমণ কর বাবদ রাজস্ব আদায় কম হয়েছে।

স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ রোধে প্রথম দফায় গত বছরের ২৪ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল ও দ্বিতীয় দফায় ৭ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ রাখেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে মাছ, পাথর, সিমেন্ট, শুঁটকি, প্লাস্টিক পণ্য, পানীয়, তুলা, প্লাস্টিকের ফার্নিচার, চিটাগুড়, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, পাটের সুতলি, পিভিসি শিট, হ্যান্ড পাম্পসহ ৩৩ ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে করোনার প্রভাবে ভারতে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা কমেছে। এ সময় প্রধানত হিমায়িত মাছ, রড-সিমেন্ট, প্লাস্টিকের পণ্য, তুলা, পাথর, ভোজ্যতেলসহ হাতে গোনা কয়েকটি পণ্য রপ্তানি হয়। তবে পণ্যের সংখ্যা কমলেও রপ্তানির আয়ের পরিমাণ বেড়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে শুঁটকি, গম, আদাসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ কোটি ৭৬ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮৬ লাখ ২৯ হাজার, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ কোটি ১৭ লাখ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে (প্রথম ৯ মাসে) ১ কোটি ১০ লাখ টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published.