শুরু হচ্ছে বরশিালে র্পূণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল নর্মিাণরে কাজ

এইচ এম সোহেলঃ বরিশালে ক্যান্সার রোগী দিন দিন বাড়ছে কিন্তু ক্যান্সার রোগীদের জন্য বরিশালে পূর্ণাঙ্গ কোনো ক্যান্সার হাসপাতাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। ফলে বেশির ভাগ রোগীদের ভারত, সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। আর ব্যয়ভারের অভাবে অনেকেই মৃত্যুকে বরণ করে।

এই বাস্তবতায় স্বয়ংসমপূর্ণ ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ হচ্ছে বরিশালে। বরিশালে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। সেই দাবি পূরণে কাজ শুরু করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। ১৭ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরেই এই ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ হবে। এ জন্য একটি পরিত্যক্ত ডোবায় বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। মাটি পরীা করে পাইল বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এখন অপো শুধু প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের। হাসপাতালটির ভিত্তিপস্ত স্থাপন চলতি মাসের মধ্যেই হতে পারে বলে জানিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ক্যানসার ইউনিট রয়েছে। তবে সেখানে নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও জনবল। কেবল রেডিওথেরাপি নির্ভর হয়ে আছে ক্যানসার ইউনিটটি। ফলে এ অঞ্চলের মানুষকে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় রাজধানী ঢাকায়। এতে ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে পদে পদে। বরিশালে দুরারোগ্য ক্যানসারের যথাযথ চিকিৎসা না থাকায় গরিবদুস্থ রোগীরা বিনা চিকিৎসায় মারা যান। অনেক রোগী ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হচ্ছেন।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যানসার ইউনিট থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ২০০২ সালে ক্যানসার রোগীদের থেরাপি দেওয়ার জন্য ১০ কোটি টাকা দামের একটি কোভাল্ট-৬০ মেশিন স্থাপন করা হয়। ১৩ বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর সেটি অচল হয়ে পড়ে। এটি সচল থাকাবস্থায় প্রতিদিন গড়ে ৩০০ রোগীর থেরাপি দেওয়া হতো। এ ছাড়া নারীদের জরায়ু ক্যানসার চিকিৎসার জন্য স্থাপিত যন্ত্রটিও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে রেডিওলজি মেশিন নেই, রেডিও টেলিথেরাপি নষ্ট, ব্রাকিথেরাপি যন্ত্রও অচল পড়ে আছে। তিন বছর আগে ক্যানসার রোগীদের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছিল ব্রাকিথেরাপি মেশিনটি। কিন্তু ঠিকাদার মেশিনটি সচল অবস্থায় কর্তৃপকে বুঝিয়ে না দেওয়ায় সেটি ওই অবস্থাতেই পড়ে আছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের (বরিশাল মেডিকেল কলেজ) উপসহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন হাওলাদার বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির স্টাফ কোয়ার্টারের পাশে পরিত্যক্ত ডোবা ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে ১৭ তলাবিশিষ্ট ক্যানসার হাসপাতাল। এতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে প্রাথমিক কিছু কাজ শুরু করেছে। হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ডোবাটি বালু ফেলে ভরাটের পর তৃতীয় দফায় মাটি পরীার কাজ চলছে। পাইল বসানোর পর আরও এক দফা মাটি পরীা করা হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জেরাল্ড অলিভার গুডা বলেন, আগস্ট মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর এই হাসপাতাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্ত উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা হয়নি। আশা করা যাচ্ছে চলতি মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্ত উদ্বোধন করবেন।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

এইচ এম সোহেল॥ আবারো বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে পাথরবোঝাই ট্রাকের ভারে ভেঙ্গে পড়েছে মাধবপাশার বেইলি ব্রিজ। পাথর বোঝাই ট্রাকটি ব্রিজ পারাপররের সময় ব্রিজের মাঝামাঝি আসার পরে ব্রিজটি ভেঙ্গে ট্রাকটি খালের ভিতরে পড়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পরে দুই পারের হাজারো গাড়ি এবং যাত্রী। ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৭ টার দিকে। বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে এই বেইল ব্রিজটি খালে ভেঙ্গে পড়ে। পাথরবোঝাই একটি ট্রাকটি পিরোজপুর থেকে বানারীপাড়া আসার পথে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর আগে ২০২০ সালেও পাথরবোঝাই ট্রাকের ভারে ভেঙ্গে পড়েছিলো বেইলি ব্রিজটি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলো। ওই সময় সড়কের পাশে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বরিশাল মেট্রোপলিটনের বিমান বন্দর থানার এ এস আই সুমন দেশ জনপদকে জানান, আমি সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আশি। বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় বরিশালের সঙ্গে নেসারাবাদ ও বানারীপাড়ার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে । এতে স্থানীয় জনসাধারণ ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ সৃস্টি হয়েছ। ট্রাক উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই ব্রিজটি বছর দেড়েক আগে আরও একবার ভেঙ্গে পড়েছিল। দুর্ঘটনায় স্থানীয়রা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ব্রিজটি সচল করার দাবি জানান তিনি।