ওমানে রাজাকার পরিবারের রাজত্ব

ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার স্বরাজপুর গ্রামের গড়ামারা মিয়া বাড়ির কুখ্যাত রাজাকার মনোয়ার হোসেন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তার ও তার অপরাপর ভাইদের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ছাগলনাইয়া উপজেলা ও ফেনী জেলার জনগণ কর্তৃক একটি দুষ্কৃতি পরিবার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জেলা জামাতের সন্তানদের শিক্ষা ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য ফেনী শহরে ফেনী শাহীন একাডেমী নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। ফেনীর মনোয়ার হোসেনের আপন ভাতিজা মো: ইফতেখার হাসান চৌধুরী। তার চাচার সন্তানাদি না থাকায় মো: ইফতেখার হাসান চৌধুরী তার চাচার কাছে লেখাপড়া করা অবস্থায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যাডার বাহিনী গঠন করে ফেনী জেলায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হয়। ইফতেখার হাসান চৌধুরীর পাসপোর্টে এখনও ইমার্জেন্সী কন্টাক্ট-এ তার চাচা মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নাম দেওয়া রয়েছে। ৮০-৯০ এর দশকে জামাতের সুদিনে লেখাপড়া শেষ করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংকে চাকরি পায়। সে চাকুরীর সুবাদে ওমানস্থ গালফ এক্সচেঞ্জে চাকরি নিয়ে ওমানে এসেই খুব সংগোপনে ওমানস্থ জামাতের অর্থ উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়। ইফতেখার হাসান চৌধুরী জামাত শিবির পরিবারের সন্তান ও নিজে ছাত্র অবস্থায় শিবিরের ক্যাডার হওয়ায় তার মাইন্ড সেট ক্রিমিনাল এবং সে খুবই ধূর্ত ও চতুর প্রকৃতির লোক। ওমানে আসার পর গালফ এক্সচেঞ্জকে সাইনবোর্ড বানিয়ে অবৈধ উপার্জনের যত প্রকার অবৈধ পন্থা অবলম্বন করা যায় তার ব্যবস্থা করে এবং ওমানের সবচেয়ে বড় হুন্ডি লিডার হয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষতিসাধন করে চলেছে। অবৈধ উপায়ে উপার্জনের অর্থ ওমানের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে নিজের নাম জাহির করা ও খবরদারী করার জন্য ব্যয় করে থাকে। এই সুযোগ সন্ধানী বাংলাদেশে যে সরকার ক্ষমতায় আসে তার সাথে তাল মিলিয়ে চলে এবং দূতাবাসে যে দায়িত্বে থাকে তার সাথে মিশে যায়। এ প্রক্রিয়ায় ওমানস্থ বাংলাদেশ স্কুলে অবৈধভাবে বিনা ভোটে বিনা নির্বাচনে চার বছর ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশে স্কুলের পূর্বের বোর্ডের ১৬ কোটি বাংলাদেশি টাকা যা ওমানের ৭.৫ লক্ষ ওমানী রিয়ালের সমান আত্মসাৎ করে। বিভিন্ন সময়ে স্কুলের নামে লুটপাট করে এবং অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ এবং নিজস্ব পছন্দের কর্মকর্তা, কর্মচারী, কম শিক্ষিত শিক্ষকদের বেতন বৃ্দ্ধি করে স্কুলের আর্থিক ও একাডেমিক ক্ষতি সাধন করে। এই খবর স্থানীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হলে তাদের নির্দেশনায় বাংলাদেশ স্কুলের স্থানীয় পেট্রোন মান্যবর রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের নির্দেশে স্থানীয় বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। উক্ত তদন্ত কমিটি তার সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম লুটপাটের সত্যতা প্রমাণ পাওয়ায় স্থানীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে। ফলে সে দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান হিসেবে সমাজে চিহ্নিত হয়। ফলে ২০১৮ সালের স্কুলের বোর্ড নির্বাচন ঘোষণা করলে এই দুর্নীতিবাজ চাটুকার হাসান আবারও চেয়ারম্যান হওয়ার খায়েসে নমিনেশন পেপার ক্রয় করে ও যথারীতি নমিনেশন পেপার জমা দেয়। কিন্তু স্থানীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তার নমিনেশন পেপার অবৈধ ঘোষণা করে সারা জীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করে। কারণ সে একজন দুর্নীতিবাজ লোক। বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির সকলকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে যার কারনে বাংলাদেশিরা খুবই ইমেজ সংকটের মধ্যে পড়ে। তার কৃতকর্ম বাংলাদেশ স্কুলের অভিভাবকদেরকে দারুনভাবে অসম্মানিত করেছে। এই ইফতেখার হাসান চৌধুরী রাজাকার পরিবারের সন্তান হওয়াতে খুব দুষ্ট চরিত্রের লোক। শুধু বাংলাদেশ স্কুলকেই সে ধ্বংস করে নাই বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ওমান গালফ এক্সচেঞ্জকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে আলাদা করে এবং গালফ এক্সচেঞ্জকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানা থেকেও বঞ্চিত করে। তার মাধ্যমে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশী রেমিটেন্স থেকে বঞ্চিত হয়। বিগত পাঁচ বছর যাবত অবৈধ ও অন্যায়ভাবে ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানা ধ্বংস করে হুন্ডির ব্যবসা রমরমাভাবে করে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছর যাবৎ সে বাংলাদেশে যেতে পারে না কারণ ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকপক্ষ তাকে অপকর্মের জন্য চাকুরিচ্যুত করে এবং দেশে গেলে অ্যারেস্ট করে আইনের কাছে সোপর্দ করবে। এই রাজাকারের সন্তান চাটুকার ন্যাশনাল ব্যাংকের নামে গালফ এক্সচেঞ্জ থেকে অবৈধ আয় করে। এই অবৈধ আয়ের টাকা দ্বারা দুর্নীতিবাজ ক্রিমিনাল টাইপের লোকজন নিয়ে সব সময় অবৈধভাবে কর্মকান্ড পরিচালনা করে। করোনা মহামারিকে পুঁজি করে চাটুকার হাসান অবৈধভাবে পাসপোর্ট নবায়নের কাজ নেয় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে। এই সুযোগ সন্ধানী দুর্নীতিবাজ পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ পেয়ে অতিরিক্ত চার রিয়াল সমপরিমান বাংলাদেশি বারোশো টাকা অতিরিক্ত আদায় করে নিজে আত্মসাৎ করে। করোনকালীন সময়ে গালফ এক্সচেঞ্জ ও ওমান এক্সচেঞ্জকে পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয় এ শর্তে যে তারা কোন দালালের কাছ থেকে পাসপোর্ট জমা নেবে না। ওমান এক্সচেঞ্জ শর্ত অনুযায়ী কখনও কোন দালাল হতে পাসপোর্ট জমা নেয়নি। পক্ষান্তরে গালফ এক্সচেঞ্জ-এর কুখ্যাত ইফতেখার হাসান চৌধুরী সম্পূর্ন ওমানে দালালের এক সিন্ডিকেট গড়ে তোলে এবং প্রচুর অবৈধ অর্থ (কোটি কোটি টাকা) আত্মসাৎ করে। নামমাত্র কিছু চিটিং বাটপার, হুন্ডিবাজ দূতাবাসের পাসপোর্ট এর দালাল বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতা যারা ওমানে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত তাদেরকে আর্থিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে ওমানের সুস্থ সমাজকে কলুষিত করে। এই অবৈধ চাটুকার দুশ্চরিত্র ইফতেখার হাসান চৌধুরী মেয়ে সাপ্লাই করে সমাজের চিটিং বাটপার লোকদেরকে অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করে আসছে। ইফতেখার চৌধুরী রাজাকার পরিবারের হওয়ায় নিজের আপন ছোট ভাইকে সালালার জামাতের সভাপতি হুন্ডি ব্যবসায়ী আবুল কালাম মজুমদারের মেয়ের সংগে বিয়ে দেন। এই ইফতেখারের আপন ছোট ভাই এর শ্বশুর আবুল কালাম মজুমদার যে ওমানে জামাতের সভাপতি ও বিশিষ্ট রাজাকার অবৈধভাবে গালফ এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে হুন্ডির ব্যবসা করে অবৈধ অর্থ উপার্জন করে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *