অন্যরকম ভ্রমণে সমরেশ মজুমদার

  বিশেষ প্রতিনিধি    09-05-2023    105
অন্যরকম ভ্রমণে সমরেশ মজুমদার

হিরে বসানো সোনার ফুলটি ঝরে পড়ল পৃথিবীর মায়া ছেড়ে! তিনি আর লিখবেন না! তার কলমের স্পর্শে সৃষ্টি হবে না আর কোনো জীবন্ত চরিত্র। তিনি সমরেশ। পাঠককে হাত ধরে নিয়ে যেতেন অজানা কোনো বোধের গভীরে। জীবনানন্দের পঙ্ক্তির মতোই- ‘যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের, মানুষের সাথে দেখা হয় নাকো তার...’- এখন তিনি সেই মহাজীবনের যাত্রী।

দীর্ঘদিন রোগে ভুগে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন সাতকাহন, তেরো পার্বণ, স্বপ্নের বাজার, উজান, গঙ্গা, ভিক্টোরিয়ার বাগান, আট কুঠুরি নয় দরজা, অনুরাগ, উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ-এর মতো কালোত্তীর্ণ বইয়ের লেখক ও নাট্যকার সমরেশ মজুমদার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি ছিলেন আপাতমস্তক লেখক। এলেন, দেখলেন আর জয় করলেন। সমরেশের প্রথম গল্প ‘অন্য মাত্রা’। লিখেছিলেন মঞ্চনাটক হিসেবে। সেই থেকেই তার

লেখকজীবন শুরু। লেখাটি ১৯৬৭ সালে ছাপা হয়েছিল দেশ পত্রিকায়। তার প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’। ১৯৭৫ সালে ছাপা হয়েছিল একই পত্রিকায়। এর পর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তিনি একে একে সৃষ্টি করে গেছেন কালজয়ী রচনা, যার একেকটি ইতিহাসের আকর। তিনি উত্তরবঙ্গকে সাহিত্যে সাবলীলভাবে যেমন তুলে এনেছেন, তেমনি কাহিনীর সাযুজ্যে দক্ষিণবঙ্গও প্রসঙ্গক্রমে উঠে এসেছে। তার পাঠকরা জানেন, সমরেশের অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাসের গল্পে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ কী দক্ষতার সঙ্গে একই সুতোয় বাঁধা পড়েছে। তবে তার জনপ্রিয়তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, বিষয়ে নতুনত্ব।

সমরেশ মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪২ সালের ১০ মার্চ ভারতের উত্তরবঙ্গের গয়েরকাটায়। শৈশব কেটেছে জলপাইগুড়ির চা-বাগানে। ডুয়ার্সের জল-জঙ্গল ও চা-বাগানের সবুজাভ পরিবেশ সমরেশের জীবনে, বহু গল্পে ও উপন্যাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল থেকে শিক্ষা শেষ করে ১৯৬০ সালে কলকাতায় যান। কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক অর্জন এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে যুক্ত ছিলেন আনন্দবাজার পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে। আসক্ত ছিলেন গ্রুপ থিয়েটারে।

সমরেশ মজুমদার লেখকজীবনে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার, সম্মাননা। এর মধ্যে ১৯৮২ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮৪ সালে পেয়েছেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার।

যদিও অনন্তপথের যাত্রী লেখক সমরেশ কিন্তু তার সৃষ্টির রেশ পাঠকের হৃদয়ে থাকবে যুগ-যুগান্তরে, বেলা-অবেলা, কালবেলা।

জাতীয়-এর আরও খবর