কক্সবাজার পৌর এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শঙ্কা যে তিন কারণে

  বিশেষ প্রতিনিধি    26-06-2023    87
কক্সবাজার পৌর এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শঙ্কা যে তিন কারণে

চলতি বর্ষা মৌসুমে পর্যটন শহর কক্সবাজারে চরম জলাবদ্ধতার শঙ্কা রয়েছে শহরবাসীসহ সংশ্লিষ্টরাসংশ্লিষ্ট একাধিক মহল এবং পৌরবাসির কাছে এ বিষয়ে কথা বলে জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে প্রধান তিন সমস্যার ধারণা পাওয়া গেছে।

সমস্যার ওই তিনটি কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নালা- প্রবাহ নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়া এবং শহরের ভেতরে এবং আশ-পাশে থাকা পাহাড়গুলো নির্বিচারে কর্তন ।

সচেতন পৌর নাগরিকদের অনেকেই একই সুরে বলেছেন, পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি এবং প্রাকৃতিক বৃষ্টি পানি প্রবাহের প্রায় সকল খাল, নালা, ছরাগুলো সংস্কারের অভাবে প্রায় সবগুলো ভরাট হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে পানি চলাচল ও প্রবাহের খাল, ছরা, নালাগুলো দখল করে স্থায়ী- অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

পলিথিনসহ নানারকম বর্জ্যে শহরের পানি প্রবাহের বেশির ভাগ খাল, নালা, ছরাগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এতে বৃষ্টির পানি এবং পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানিগুলো ছরা, খাল ও নালাগুলোতে এসে পড়ছে।

তবে ছরা, খাল -নালাগুলো পানিগুলোকে ধারণ করতে পারে না। চলাচলের বন্ধ ৷ . তাই স্বাভাবিকভাবে পাহাড়ি ঢল ও প্রাকৃতিক বৃষ্টির পানি খাল, নালা ও ছরা থেকে উপচে পড়ে সড়ক- রাস্তায় ঠাঁই নিচ্ছে। এতে সৃষ্টি হয়ে থাকে চরম জলাবদ্ধতা।

বাহারছড়া মুরাং ছরা, গোলাদীঘির পাড়ের ছরা, হাশেমিয়া মাদরাসা সংলগ্ন ছরা, তারাবনিয়ারছড়ার ছরা, পর্যটনের দিঘীর ছরাসহ কক্সবাজার শহরের থাকা অন্যান্য সকল ছরা বা পানি চলাচলের প্রবাহের সংযোগ ছিলো বাঁকখালী নদীর সাথে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিগুলো ওইসব ছরা কিংবা নালা দিয়ে বাঁকখালী নদীতে চলে যেতো।

কিন্তু পানি চলাচলের সকল প্রবাহগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় পানি চলাচলের উৎসগুলো এখন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। তাই সংগত কারণে পানি নিস্কাশনের সকল পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ায় কক্সবাজার শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গত কয়েক বছর আগে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে একটি কমিটি ও গঠিত হয়েছিলো। ছরা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে আহবায়ক করে গঠনা করা কমিটিতে পৌরসভার প্রতিনিধিসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ও ছিলেন। এ কমিটি অনেকদিন মাঠে কাজ করে অনেকটা সাফল্য ও পেয়েছিলো। এক পর্যায়ে কমিটির তৎপরতা বন্ধ হয়ে যায়।

এ সুযোগে পুনরায় অনেক দখলদার নালা-নর্দমা-খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে। দখলদারদের তালিকায় রাজনৈতিক নেতাসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ও রয়েছেনশহরের সচেতন নাগরিক ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসাইন মাসু বলেন, শহরে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন খাল ও নালাগুলোতে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বর্জ্য অপসারণ, খাল-নালাগুলো খনন ও সংস্কার এবং সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা।

বৃহত্তর ঘোনারপাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি মনজুর আলম সিকদার বলেন, বর্ষা মৌসুম আসলেই নির্বিচারে শুরু হয় পাহাড় নিধন। এতে পাহাড়ের বালি ও মাটিগুলো বৃষ্টি পানির ঢলে এসে পড়ে নালা, খাল, ছরাগুলোতে। এভাবে ভরাট হয়ে যায় পানি প্রবাহের ওইসব উৎসগুলো। তখন এসব উৎস দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে না, তাই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের উপর জোর দেন।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, কারো উপর না বুঝে-শোনে দোষ চাপানোটা খুবই সহজকিন্তু যারা অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপায় তারা কি একবার ও নিজের দায়-দায়িত্বের বিষয়টি ভাবেন?

যত্রতত্র ইচ্ছেমতো পলিথিন ও বর্জাগুলো ফেলা হচ্ছেপানি প্রবাহের নালা-খালগুলোতে রাতে বেলায় মণ মণ বর্জ্য ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছেতাই জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরবাসীর ও দায়-দায়িত্ব কম নয়।

সারাদেশ-এর আরও খবর