হঠাৎ আলোচনায় (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাম্ভাব্য প্রার্থীরা

  বিশেষ প্রতিনিধি    06-07-2023    89
হঠাৎ আলোচনায় (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাম্ভাব্য প্রার্থীরা

২০২৪ সালের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের গুঞ্জন শুরু হয়েছে দেশের সর্বত্র। বইছে ভোটের হাওয়া। চলছে জল্পনা-কল্পনা। ঠিক তেমনিই ২৯৭ কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ মাঠ ধরে রাখতে অনড়। দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে দলের আলোচনায় থাকা মনোনয়ন প্র্যাশীরা। সব খানেই আলোচনা এখন ভোট নিয়ে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাম্ভাব্য প্রার্থীরা।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (৩ রা জুলাই) কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহ আলম চৌধুরীর বাসভবনে ৬ নেতার একটি বৈঠককে কেন্দ্ৰ করে বেশ চাঞ্চল্য ও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজা শাহ আলম হিসেবে সমধিক পরিচিত শাহ আলম চৌধুরীর উখিয়ার জালিয়া পালংয়ের বাসায় ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

তবে ওই বৈঠকে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকলে ও উপস্থিত ছিলেন না উখিয়া উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

শাহ আলম চৌধুরীর বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৬ নেতা একসাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাবেন। ৬ জন থেকেই যে কোনো একজনকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দিতে অনুরোধ করবেন দলের প্রধানের কাছে। ৬ জনের ছবি সম্বলিত একটি পোষ্টার ছাপানোর ও সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।

ওই ৬ নেতা হচ্ছে শাহ আলম চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আদিল চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলম চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল বশর, সহ-সভাপতি সাইফুদ্দিন খালেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ ।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সূত্র ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বলছেন, ওই ৬ জনের মধ্যে কারো সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো গ্রহণযোগ্যতা কিংবা গণভিত্তি নেই বললেই চলে। সাইফুদ্দিন খালেদ সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আব্দুল গণীর সন্তান। তিনি আবদুর রহমান বদির সাথে পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছিলেন। আদিল চৌধুরী কয়েক দফা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হতে পারেননি।

মাহবুব মোর্শেদের রাজনীতির ভিত্তি হচ্ছে তার বাবা মোহাম্মদ আলী সংসদ সদস্য ছিলেন এক মেয়াদে। নুরুল বশর টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। মেয়র পদে দলের মনোনয়ন চেয়ে পাননি। তার ছোটভাই অ টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ।

আলম। জাফর আলম চৌধুরী দীর্ঘদিন সরকারি চাকরি করে বর্তমানে অবসরে। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আকতার চৌধুরীর আপন চাচা। শাহ আলম চৌধুরীর কক্সবাজার শহর কিংবা জালিয়াপালং এলাকায় কোনো গণভিত্তি এবং ব্যাপক পরিচিতি ও নেই।

উল্লেখিত ওই ছয় নেতার বিচ্ছিন্ন ঐক্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন ‘ওই ঐক্য বদি, শাহীন আকতার ও জাহাঙ্গীর কবিরকে ঠেকানোর ঐক্য।’

বিশ্লেষকদের মতে, ওই ছয় – নেতার উদ্দেশ্য যদি হতো শুধু আবদুর রহমান বদিকে ঠেকানো তাহলে তারা বৈঠকে উখিয়া উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সাথে রাখতেন ।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী উখিয়া সদর রাজাপালং ইউনিয়নের অত্যন্ত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। তার সাংগঠনিক ও গণভিত্তি খুব শক্তিশালী। তিনি চেয়ারম্যান পদে হ্যাটট্রিক করেছেন।

তাছাড়া তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আকতারের আপন ছোটভাই। আবদুর রহমান বদি তার ভগ্নিপতি। সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি আবদুর রহমান বদি ও জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর অনুসারী।

জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি, ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। দলের মনোনয়ন চাইতেই পারি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দলের মনোনয়ন চাওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার বটে। দলের মনোনয়ন যে কোনো কেউ চাইতে পারেন। তবে দলের প্রার্থী কে হবেন তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে আওয়ামী লীগ এবং দলের প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, সদ্য গত ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীকে সংসদ সদস্য হিসেবে পেতে চাই’ শিরোনামের রঙ্গিন পোষ্টার ও লাগানো হয়েছে জেলা সদর উখিয়া ও টেকনাফে। টেকনাফের আবদুর রহমান বদি। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রাক্তন সংসদ সদস্য। টেকনাফ পৌরসভার জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত মেয়র ও ছিলেন তিনি। গণমাধ্যমের কল্যাণে তার পরিচিতি রয়েছে সারা দেশে।

তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত, নানা বিতর্কিত কারণে আবার সমালোচিত ও। তার চরম শত্রুরা ও স্বীকার করতে বাধ্য যে, আবদুর রহমান বদির জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ মানুষ তথা আমজনতার কাছে আকাশচুম্বী।

তাই গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দিতে না পারলে ও মনোনয়ন দিয়েছে তার স্ত্রী শাহীন আকতার চৌধুরীকে। তিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য। বদির বর্তমান সাংগঠনিক পরিচয় হচ্ছে তিনি টেকনাফ পৌর শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

আবদুর রহমান বদির ব্যক্তিগত আইনজীবীরা বলছেন, যে কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে এ মূহুর্তে আবদুর রহমান বদির কোনোরকম আইনী বাঁধা নেই। তিনি জানিয়েছেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন অবশ্যই চাইবেন।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: নুরুল হুদা বলেন, ‘কথিত ছয়নেতার ওইসব কর্মকান্ড একটি বিচ্ছিন্ন তৎপরতা। ওইসব কোনোভাবেই সাংগঠনিক কর্মকান্ড নয়, ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার হীন অপচেষ্টা বটে। আরো সুস্পষ্টভাবে বললে বলতে হবে কথিত ওই ছয়নেতার এসব বিচ্ছিন্ন তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং ‘বদি-জাহাঙ্গীরকে ঠেকানো’।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ওইসব জনবিচ্ছিন্ন ও গণভিত্তিহীন ব্যক্তিদের কর্মকান্ডগুলোকে মোটে ও গুরুত্ব দিচ্ছে না, নিচ্ছে না আমলে। তিনি কথিত ওই ছয় নেতার কর্মকান্ডের বিষয়ে উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, পাঁচ ইউনিয়ন ও ৪৫টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দলের সকল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের কোনোরকম বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন। সুত্র: কক্সবাংলা

সারাদেশ-এর আরও খবর