সৌদি - ইরান সম্পর্ক টেকসই হবে, নাকি সৌদী - তুরস্ক সম্পর্ক টেকসই হবে?বাস্তবতা কি বলে।

  বিশেষ প্রতিনিধি    23-12-2023    208
সৌদি - ইরান সম্পর্ক টেকসই হবে, নাকি সৌদী - তুরস্ক সম্পর্ক টেকসই হবে?বাস্তবতা কি বলে।

মোসলমানদের ঐক্য খুবই অপরিহার্য ও সময়ের দাবী, এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত পোষন করে না। ঐক্যই মোসলমানদের সকল প্রকার যুলুম নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে পারে।মোসলমানের ঐক্যের নূন্যতম যে ব্যবস্হা ছিলো তা ১৯২৩ সালে অটোম্যান সাম্রাজ্য বা ওসমানীয় খেলাফত বিলুপ্তির মাধ্যমে ধংস হয়ে যায়। দুনিয়ার বুকে মোসলমানদের পক্ষে দৃঢ ভাবে কথা বলার মুখপাত্র আর রইলো না।সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী ধ্যান ধারনা মুসলিম বিশ্বের তরুনদের মাঝে এমন ভাবে পেয়ে বসেছিলো যা থেকে কোন ভাবেই ফেরানো যায় নি তরুনদের। একদিকে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদ ইউরোপিও রেনেসাঁর ডাক অপর দিকে আবার সাম্যবাদের নামে কমিউনিষ্ট এডভেঞ্চারের মরন ডাকে আত্বাহুতি দিতে মুসলিম তরুন সমাজকে উদ্বেলিত করছে নতুন কিছুর সন্ধানে। এই সময়ে ইসলামী সাম্রাজ্য তথা মুসলিম শাষকবর্গ নিজেদের তরুনদের সামনে যুগউপযোগী কোন কর্মসুচি হাজির করতে পারেনি বরং যে সকল মুসলিম তরুন পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষীত হয়েছে তারা এই শাষকবর্গ কে এমন ভাবে চিত্রায়িত করেছে যে শাষক হাসির পাত্রতে পরিনত হয়েছিলেন।

এই তরুনদের কে বিভ্রান্ত করে জাতীয়তাবাদের (সংক্রীর্ন মনা দৃষ্টি ভঙ্গী) নামে মুসলিম উম্মাহ কে বিভক্ত করে প্রায় ৫৮ টি ভুগোলিক জাতী রাষ্ট তৈরী করা হয়েছে।এই রাষ্ট সমুহে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষীত চরম সমাজতন্ত্রী বা পুঁজিবাদী ধ্যান ধারনা বিশ্বাসীরা ক্ষমতায় বসে যায়। তারা ইসলাম কে তাদের শত্রু বানিয়ে নেয়ে। সে ভাবেই রাষ্টকে পরিচালনা করে। পাশ্চাত্যের নেতারা এদের কে দিয়ে ইসলাম ও মুসলিম উম্মার ঐক্য বিনষ্ট করার কাজ টি সেরে নেয়ে। ইসলাম পন্থীদের উপর চরম জুলুম নির্যাতনের পাশা পাশি ইসলামী তাহজিব তামাদ্দুন ধংসের কাজটি চালিয়ে নেয়ে।মুসলিম উম্মাহ যাতে কোনো ভাবেই সমহিমায় উদ্ভাসিত হতে না পারে তার জন্য বাঙ্গালী,আরবী,তুর্কী, ইরাকী, ইরানী, পশতুন, সিন্ধি,বালুচী, তাতারী, কুর্দি সহ নানান কিসিমের জাতীবাদী আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ে।

জাতীয়তাবাদী বিভক্তির পাশা পাশি আরো একটি মারাত্বক বিভক্তি মুসলিম বিশ্ব কে আভ্যন্তরিন ভাবে দূর্বল করেছে। তা হলো ধর্মীয় মতাদর্শিক বিভক্তির বিষ বৃক্ষ। ওস্তাদ বা শিক্ষক কেন্দ্রীক অনুসারী দের দিয়ে হানাফি,শাফেয়ী, মালেকী হাম্বলী মজহাবি বিভক্তি।,রাজনৈতিক বিভক্তি শিয়া ও সুন্নি যা বর্তমানে ধর্মীয় মতাদর্শিক বিভক্তিতে পরিনত হয়েছে। খারেজী, রাফেজী,বেরলভী, দেওবন্ধী মাসলাকি তো আছেই। গোটা মুসলিম বিশ্ব জাতীয়তাবাদী বিভক্তির পাশা পাশি ধর্মীয় বিভক্তির যন্ত্রনায় অস্হীর। এর পর রয়েছে শিক্ষা, বিজ্ঞান চর্চা সহ সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার মতো দূর্ভাগ্য। এ হেন পরিস্হিতিতে আমাদের আলোচনা টা সৌদি ও ইরানের সম্ভাব্য দুরত্ব কমার উদ্যোগে নিয়ে। এটা সফল হবে,না বিপল হবে? টেকসই হবে কিনা? না হলে বিকল্প কি হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা। একথা সত্য যে সারা দুনিয়ায় যত মুসলিম আছে তাদের প্রত্যাক মোসলমান আশা করে যে মোসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হবে।

এই ঐক্য বদ্ধ হওয়ার পথে বাধা একমাত্র শাষক বর্গের ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য বিদেশি শক্তির প্রতি অতি নির্ভরতা। শাষক বর্গের স্বৈরতান্ত্রীক আচরনে নিষ্পেষিত হয়ে জনগন স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ হারিয়ে ফেলা। সে যাই হোক, আলোচ্য বিষয় হলো সৌদি- ইরানের সম্পর্কের দুরুত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব কিনা?, উত্তর হতে পারে সম্ভব।যদি প্রশ্ন করা টেকসই হবে কিনা? তা হলে উত্তর হবে - না, হবে না।

কারন ঐ একটাই শিয়া ও সুন্নি মতাদর্শিক দন্দ্ব। হযরত আলী থেকে শুরু করে ইমাম হোসাইন পর্যন্ত প্রথমে এটা ছিলো রাজনৈতিক দন্দ্ব -পরে পরিনত হলো ধর্মীয় মতাদর্শিক দন্দ্ব। এর পর এটা হলো ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতাদর্শিক দন্দ্ব। এটা চলছে বহু বছর যাবৎ। ইরান শিয়া ইজম কে ধর্মীয় রুপ দিয়ে রাষ্টীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে টা আকিদা গত বিষয় রুপ লাভ করেছে।এখান থেকে তারা বের হতে পারবে না। ইরানের সকল কিছু আবর্তীত হয় শিয়া ইজম কে ঘিরে তবে ইসলাম ও মুসলিম পরিচয়ের আড়ালে। আবার সৌদি আরব সুন্নি মতাদর্শিক চিন্তা ও চেতনায় আবিষ্ট হয়ে আব্দুল ওহাব নজদীর সংস্কার মুলক শিরক ও বিদায়াত মুক্ত ইসলামি অনুশাসন লালন প্রয়াসি হয়ে সৌদ বংশিয় রাজতান্ত্রীক রাষ্ট। পবিত্র মক্কা ও মদীনার খাদেম পরিচয়ে শিয়া সার্কেলের বাহিরে মুসলিম দুনিয়ার নেতৃত্বের আসনে বসেছিলো। সে ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছিলো। তবে তা অবশ্যই উসমানি খিলাফতের পুনরুত্থান রোধ করার বিনিময়ে। উসমানীয়রা সুন্নি মতাদর্শেরঅনুসারী ছিলো। সৌদ রাজ বংশ টিকিয়ে রাখতে শিয়া বিদ্দ্যেষ ও সুন্নি মতাদর্শ লালন একান্ত তাদের রাজনৈতিক প্রয়োজন ছিলো। কামাল আতাতুরকের ইসলাম বিরোধী চরম প্রদক্ষেপ সৌদি আরব কে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে বসার সুযোগ করে দিয়েছে। এর সাথে উপহার হিসাবে পেয়েছে পবিত্র মক্কা ও মদীনার অবস্হান বা নিয়ন্ত্রন তাদের কব্জায় থাকা। তবে সৌদি রাজবংশ ও আবরতীত হয় ইসলাম ও মোসলমান পরিচয়ে। দুটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শিক স্কুল অব থট এর নেতৃ স্হানীয় দেশের মধ্যে বহুপাক্ষিক ঐক্যমতে আসা সুদুরপরাহত।এই দন্দ্ব এতো গবীর যে এসব পাঠ করলে আফসোসের শেষ থাকে না। এ দুটি রাষ্টের মধ্য হতে পারে কিছু বিষয়ে একমত হওয়া। যেহেতু দুটি রাষ্টই পরিচয় দেয় ইসলাম ও মোসলমানিত্বের, তা হলো দুনিয়ার যে কোন জায়গায় মোসলমান নিপীডিত হবে সেখানে যোথে ভাবে প্রতিবাদ ও তা বন্ধে একমত থাকা। যতক্ষণ না ইমাম মেহেদী আসছেন! তা হলে বিকল্প কী হতে পারে?

ইরান একটা শক্তি, এটা অস্বীকার করা বোকামী হবে, শিয়া মতাদর্শিক দন্দ্বটি যাতে কে চরম উত্তেজনা রুপ লাভ না করতে পারে সে জন্য ইরানকে নরমালাইজ করে সৌদি - তুরস্ক সমন্দ্ধ হতে পারে। এ সমন্দ্ধের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের দুষ্ট চক্র থেকে মধ্য পাচ্যের দেশ সমুহ কে বের করা। মধ্যে পাচ্যের দেশ সমুহের বিষেষ করে রাজতান্ত্রিক দেশ সমুহের এক মাত্র ভয় হলো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ভয়। এই ভয় দুর করে দিতে পারলে আমার মনে হয় না আর কোন কিছুর ভয় তাদের আছে।

এর জন্য যা করতে হবে, তা হলো বিদ্যমান মুসলিম রাষ্ট সমুহের ভৌগলিক স্হল সীমা, সামুদ্রিক জলসীমার প্রতি অপর মুসলিম রাষ্টের বিরোধে ৩য় মসলিম রাষ্টের অনলে ঘি না ঢালা। এ ক্ষেত্রে দন্দ্বে লিপ্ত মুসলিম রাষ্ট দুটি তারা আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী সমাধান করবে। অপর মুসলিম রাষ্ট সমুহ অভিজ্ঞতা দিয়ে ন্যায়ের পক্ষে থাকবে। তারপর কোন রাষ্টের সরকার পরিবতর্নে অপর কোন মুসলিম রাষ্ট কোন গোষ্টি বা দল কে সমর্থন করবে না। ঐ দেশের জনগন যাকে খুশি যেভাবে খুশি ক্ষমতায় আনবে বা নামাবে। চলমান সরকারের সাথে দ্বীপাক্ষিক সম্পর্ক চালিয়ে যাবে।

এ দুটি বিষয়ে সৌদি ও তুরস্ক একমত হলে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশীয়া, কাতার, পাকিস্হান, বাংলাদেশ কে পাশে পেলে মুসলিম বিশ্ব কে দাবিয়ে রাখার চিন্তা পাশ্চাত্যের দেশ সমুহ বাদ দিতে বাধ্য হবে।তখন ইরান তার শিয়া ইজম কে ব্যবহার করে মধ্য পাচ্যের দেশ সমুহে যে প্রভাব বিস্তারের সামরীক এন্জেন্ডা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা থামিয়ে দিয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে মুসলিম বিশ্বের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে। না হয় নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে শুধু ইরান শাষন করবে। সৌদি আরব তার ক্ষয়িষ্ণু ইমেজ ফিরিয়ে আনতে হলে আর তুরস্ক তার প্রভাবকে অব্যাহত রাখতে হলে সৌদি তুরস্ক জোট খুবই প্রত্যাশিত। এ রকম একটি জোটের জন্য সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জনতা অধীর অপেক্ষায় আছে।

মুক্তমত-এর আরও খবর