আ.লীগেরও এক দফা, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন: কাদের

  বিশেষ প্রতিনিধি    13-07-2023    115
আ.লীগেরও এক দফা, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন: কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে বিএনপি যে এক দফার দাবি তুলেছে, তার বিপরীতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এক দফা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার সরকারের সময়েই নির্বাচন হবে এবং তিনি ছাড়া (শেখ হাসিনা) কোনও নির্বাচন হবে না।

বুধবার (১২ জুলাই) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির এক দফা হলো শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আমাদেরও এক দফা, শেখ হাসিনা ছাড়া কোনও নির্বাচন হবে না। নির্বাচন শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই হবে, শেখ হাসিনাই নেতৃত্ব দেবেন।

বিএনপির এক দফা নয়াপল্টনের কাদা-পানিতে আটকে গেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি অনেক ষড়যন্ত্র করেছে। আগেও কাঁথা-বালিশ নিয়ে অনেক লোক আনার চেষ্টা করেছে। আগে স্বপ্ন ছিল ডিসেম্বরের, সেই স্বপ্ন দেখে গরুর হাটে গিয়েছিল।

‘এখন আরেক স্বপ্ন দেখছে শেখ হাসিনার পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই স্বপ্ন শেষ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নয়া পল্টনের কাদাবালিতে আটকে গেছে। বৃষ্টি পড়েছে বৃষ্টির পানি নয়া পল্টনে কাদা-পানিতে পরিণত করে বিএনপির এক দফা আটকে গেছে।’

আওয়ামী লীগ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে জানিয়ে এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে তাদেরও (বিএনপির) এক দফা, আমাদেরও এক দফা, সংবিধান সম্মত নির্বাচন। আমাদের এক দফা সংবিধান সম্মত নির্বাচন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

বিদেশি বন্ধুদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আওয়ামী লীগও একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্য বলে জানান দলের সাধারণ সম্পাদক।

‘কোনও বাধা দেব না। কাউকে আক্রমণ করতে যাব না। ঢাকায় বিদেশে বন্ধুরা এসেছেন, তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। আমাদেরও লক্ষ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে যারা বাধা দিতে আসবে, আমরা তাদের প্রতিহত করবো।’

নির্বাচনে আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খেলা হবে, নির্বাচন পর্যন্ত। মাঠ ছাড়বেন না। যখনই ডাক দেব, শেখ হাসিনার নির্দেশে তখনই আপনারা মাঠে চলে আসবেন। কোনও অপশক্তির সাথে আপস করবেন না।’

এসময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন খেলতে নামবে তখন কোনও অপশক্তি সামনে দাঁড়াবে পারবে না। প্রস্তুত হয়ে যান।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের মায়ের কোল যারা খালি করেছে, যারা আমার দেশের অগণিত মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে; তাদের হাতে রক্তের দাগ তাদের সঙ্গে আপস নয়। ১৫ আগস্টের যাদের হাতে রক্ত, তাদের সঙ্গে আপস করতে পারি না। একাত্তরের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, জয় বাংলা স্লোগান, ৭ মার্চের চেতনার সঙ্গে আপস করতে পারি না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন বিএনপির পছন্দ নয় মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যাকে ভালোবাসবে, জনগণ যেই নেত্রীর সততাকে পছন্দ করে; বাংলাদেশের মানুষ যেই নেত্রীর উন্নয়নকে পছন্দ করে, যার পরিশ্রম-সততাকে পছন্দ করেন, যিনি রাত জেগে মানুষের কথা ভাবেন- এমন নেত্রীকে আমরা হারাতে চাই না।’

‘‘বিএনপি জানে নির্বাচন হলে তারা হেরে যাবে। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা তারা ভেসে যাবে। আজ সেজন্য তারা শেখ হাসিনাকে হিংসা করে। যারা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেস ওয়ে, চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু টানেল চায়নি, এক দিনে একশ সেতু উদ্বোধন চায়নি, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প পছন্দ হয়নি, ঢাকা চট্টগ্রামসহ সারা দেশের রাস্তাঘাটের যে উন্নয়ন; সেই উন্নয়ন যাদের পছন্দ হয় না, তারা শেখ হাসিনাকে পছন্দ করবে না। শেখ হাসিনার অপরাধ, তিনি উন্নয়ন করেছেন, তার অপরাধ তিনি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ’৪১ সালে উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। আজকে এটা তার অপরাধ।”

বহির্বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নেতৃত্বের প্রশংসা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তাকে বলে অনুপ্রেরণা। বিশ্বব্যাংকের সভাপতি তার নেতৃত্বের প্রশংসা করে। আইএমএফ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের তার অসামান্য নেতৃত্বের প্রশংসা করে। বাংলাদেশের কিছু মানুষ এটা সহ্য করতে পারে না।’

‘শেখ হাসিনার প্রশংসা তাদের জ্বলে, তাদের ভালো লাগে না। শেখ হাসিনা মানে উন্নয়ন, শেখ হাসিনা মানে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন। ৪৮ বছরের বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো এমন সৎ নেতৃত্ব, সৎ প্রধানমন্ত্রী, সাহসী নেতৃত্ব, দক্ষ প্রশাসক আমরা পাইনি। বঙ্গবন্ধুকন্যাকে তারাই হারাতে চায়, যারা জানে ভোট করলে তার সঙ্গে পেরে উঠবে না। এজন্যই তার ওপর এতো ক্ষোভ।’

গণতন্ত্রের শত্রুদের সাথে কোনও আপস নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী অনেক দয়া দেখিয়েছেন। ২১ আগস্ট তাকে হত্যার জন্য হামলা করার পরও কোকোর মৃত্যুর পর তার বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দয়ালু কন্যা শেখ হাসিনা। দরজা বন্ধ। বাইরের গেট বন্ধ। শেখ হাসিনাকে তারা ঢুকতে দেয়নি। এই অপশক্তি, গণতন্ত্রের এই শত্রুদের সাথে আপস আওয়ামী লীগ করতে পারে না।’

এসময় আগস্টে শোকের মাসে কর্মসূচির পাশাপাশি গণসংযোগ চালানোর আহ্বান জানান তিনি। শোকের মাসে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানার ছবি ছাড়া আর কারও কোনও ছবি দিয়ে প্রচার না চালাতে নেতাকর্মীদের বলেন তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরী বিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস, উত্তরের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষা সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপপ্রচার সম্পাদক সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শেখ বজলুর রহমান, হুমায়ুন কবির, নুরুল আমিন রুহুল, আবদুল কাদের খান, হাবিব হাসান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ, কৃষক লীগের সভাপতি সমির চন্দ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শারমীন সুলতানা লিলি, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

এ ছাড়া, মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ইসহাক আলী খান পান্না, লিয়াকত সিকদার, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সাইফুর রহমান সোহাগ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, মহানগর আওয়ামী লীগের ডা. দিলীপ রায়, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, মোর্শেদ হোসেন কামাল, গোলাম সরোয়ার কবির, রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, আনিসুর রহমান, আজিজুল হক রানাসহ উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সারাদেশ-এর আরও খবর